Top News

বয়সের ভারে নুইয়ে পড়লেও বাদাম বিক্রি করে টিকে আছেন হানিফ ব্যাপারী

 

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের একজন সংগ্রামী বাদাম বিক্রেতার জীবনকাহিনি

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর দিঘলদী গ্রামের ৬৬ বছর বয়সী হানিফ ব্যাপারী জীবনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০ বছর ধরে বাদাম বিক্রি করে সংসার চালিয়ে আসছেন। বয়সের ভার এবং শারীরিক অসুস্থতাকে পাশ কাটিয়ে প্রতিদিনের সংগ্রামে টিকে থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই মানুষটি।

হানিফ ব্যাপারীর পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। তাঁদের জন্য প্রতিদিন কলেজগেট এলাকার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে বাদাম ভেজে বিক্রি করেন। গতকাল বিকেলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, জমিজমাহীন হানিফ এখনো কারও সাহায্যের দিকে হাত বাড়াতে চান না। নিজের পরিশ্রমে আয় করা সামান্য টাকা দিয়েই পরিবার চালানোর চেষ্টা করেন।


বাদাম বিক্রির হিসাব

হানিফ প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি বাদাম বিক্রি করেন। উপজেলার বাজার থেকে ১৬০–১৭০ টাকায় কেনা বাদাম ভেজে ২৫০ টাকায় বিক্রি করেন। ছোট প্যাকেট ১০ টাকা ও বড় প্যাকেট ২০ টাকায় বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিন তাঁর লাভ হয় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে বৃষ্টি কিংবা অসুস্থতার কারণে অনেক দিন বাদাম বিক্রি করতে পারেন না।

শারীরিক অসুস্থতা ও সংগ্রামের গল্প

হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যার কারণে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন হানিফ। তবুও প্রতিদিন বাদাম বিক্রির জন্য ফুটপাতে দাঁড়ান। মাসে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা আয় হলেও ওষুধ, বাজার খরচ এবং পরিবারের ভরণপোষণে তা খুবই অপ্রতুল। তাঁর ভাষায়, ‘বাদাম বেইচ্চা যা পাই, তা দিয়া ঠিকমতো সংসার চলে না।’

লড়াকু জীবনের প্রশংসা

মতলব সরকারি কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক তৌহিদুল আলম ও মো. কামাল হোসেন বলেন, হানিফ ব্যাপারী পরিশ্রমী ও লড়াকু মানুষ। তাঁর মতো মানুষ সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

শেষ কথা

হানিফ ব্যাপারীর জীবন আমাদের শেখায় যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তবুও এই পরিশ্রমী মানুষটির জন্য সামাজিক সহায়তা ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

News Source: Prothom Alo

Related Article 

Post a Comment

Previous Post Next Post